কালী পূজার ইতিকথা

নমস্কার বন্ধুরা.আপনারা সকলেই জানেন যে বছরের এই সময়টা অর্থাৎ অক্টোবরের শুরু এবং নভেম্বরের শেষে যখন সবেমাত্র শীতের ঠান্ডা হাওয়ায় এই মন দোলা দিয়ে ওঠে আলমারিতে তুলে রাখা জামা কাপড় গুলো আবার বেরিয়ে আসে ঠিক তখনই  যখন সবেমাত্র দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে সবার মন ভার আর ঠিক সেই সময় মানুষ নিজের মনকে একটা আশ্বাস দিয়ে খুশি রাখে আর সেটাই হলো কালীপূজা।



সকলকে বিজয়ার প্রণাম জানিয়ে এবং কালী পূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে আমারা শুরু করছি আমাদের মূল পর্ব অর্থাৎ কালী পূজার ইতিকথা।

আমরা সকলেই জানি যে এই পূজা কে আমরা কালীপূজায় বলে আমরা কালীপূজায় বলে কে আমরা কালীপূজায় বলেই চিনেছি যদিও এই পূজার আরো অনেক গুলি নাম আছে যেমন দীপাবলি শ্যামা পূজা মহানিশা পূজা এছাড়াও আরো অনেকগুলি এই পূজা উদযাপন করা হয় কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকে. আমাদের বাংলা ছাড়াও এই পূজা আরো কয়েকটি জায়গায় যেমন ছত্রিশগড় উড়িষ্যা এবং আসামেও বিপুলভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
আচ্ছা তবে এবার শোনা যাক নামকরণের ইতিহাস। কালীর আবির্ভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, দেবাসুরের যুদ্ধে পরাজিত দেবগণের স্ত্ততিতে আদ্যাশক্তি ভগবতীর দেহকোষ থেকে দেবী কৌষিকী আবির্ভূত হন। তখন ভগবতীদেবী কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেন বলে তাঁর নাম হয় কালী বা কালিকা। তিনি শুম্ভ-নিশুম্ভ নামে দুই দানবকে বধ করেন। তাদেরই দুই চেলা চন্ড ও মুন্ডকে বধ করায় দেবীর এক নাম হয় চামুন্ডা।
এই পূজা খুব বেশি পুরানো না বেশি পুরানো না পুরানো না না আঠারো শতকের আগে এই পূজা সম্বন্ধে কেউ বিশেষ কিছু জানতো না না। আঠারো শতকে বলরামের লেখা কালিকামঙ্গল কাব্যে এই পূজার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বাংলায় পুজোকে জনপ্রিয় করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং তার নাতি ইশ্বরচন্দ্র।

 আপনারা সকলেই জানেন যে কালী পূজার আগের দিন দিন আগের দিন দিন আমরা সকলেই প্রায় কমবেশি ভূত চতুর্দশী পালন করি অর্থাৎ সেই চোদ্দ শাক চোদ্দ চোদ্দ প্রদীপ।আধুনিক যুগে ভূত চতুর্দশী পালনকে অনেকে অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কার বলে অভিহিত করে থাকেন। তবে বেশির ভাগ বাঙালি পরলোকগত পিতৃপুরুষের আত্মার সদ্গতির কামনায় বহু কাল আগে থেকে চলে আসা এই প্রথাকে খুব সাড়ম্বরে পালন করে থাকেন। এটা মূলত বাঙালি হিন্দুর উৎসব, কারণ বাংলা ছাড়া ভারতের অন্য কোনও রাজের হিন্দুরা সে ভাবে এই ভূত চতুর্দশী উদযাপন করে না। পশ্চিম ভারতে এই তিথিকে ‘নরক চতুর্দশী’ বলে।

অনেকে বলে থাকেন ভুত চতুর্দশীর দিন পরলোকগত চৌদ্দ পুরুষের আত্মারা নিজ নিজ বাড়িতে নেমে আসেন। তাই তাদের আসা যাওয়ার পথকে আলোকিত করতেই নাকি এই দিন সন্ধ্যাবেলা প্রদীপ জ্বলানোর রীতি।

আর একটা মত, চামুণ্ডারূপী চৌদ্দখানা ভূত দিয়ে ভক্তবাড়ি থেকে অশুভ শক্তিকে তাড়াবার জন্যে মাকালী নেমে আসেন।

হিন্দু পুরাণে বলা আছে, এই তিথিতে সন্ধ্যা নামার পর পরই অশরীরী প্রেতাত্মারা বের হয়ে আসেন। আর তাদের হাত থেকে নিস্তার পেতে সন্ধ্যায় পর গৃহস্থের বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম।

তবে যে মতটি সর্বাধিক প্রচলিত সেটা হল, নরকাসুররূপী রাজা বলি তখন সাধনবলে শক্তি অর্জন করে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল জয় করে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল, এমনকি দেবতারাও রেহাই পাচ্ছিল না।

এমন অবস্থায় দানব রাজা বলির তাণ্ডব থামাতে দেবগুরু বৃহস্পতি ভগবান বিষ্ণুকে একটা উপায় করতে বললেন।

তখন বামন রূপে ভগবান বিষ্ণূ বলি রাজার কাছে এসে তিন পা জমি ভিক্ষা চাইলেন।

দানবরাজ বলি প্রথমেই বুঝেছিলেন এই বামন আর কেউ নন, স্বয়ং বিষ্ণু। কিন্তু এরপর না বোঝার ভান করে তিনপদ জমি দানের চুক্তিতে রাজি হলেন।

এরপর, ভগবান বিষ্ণু দু’পা দিয়ে স্বর্গ ও মর্ত্য দখল করে নিলেন। তারপর নাভি থেকে তৃতীয় পা বের করে রাখলেন বলি রাজার মাথার উপর, আর বলিকে ঠেলে দিলেন পাতালে। সেই থেকে বলির পাতালই হল আবাস।

প্রশ্ন হল, ভূত চতুর্দশীর সঙ্গে বলিরাজার সম্পর্ক কী?

বলিরাজ জেনে বুঝেও দান করেছিলেন বলে, ভগবান বিষ্ণু রাজা বলির নরকাসুর রূপের পুজোর প্রবর্তন করেন।

নরকাসুররূপী রাজা বলি কালীপুজোর আগের দিন ভূত চতুর্দশীর তিথিতে অসংখ্য অনুচর-সহ ভূত, প্রেত নিয়ে মর্ত্যে নেমে আসেন পুজো নিতে। আর মানুষ পরলোক জগতের ভূত প্রেতকে দূরে রাখতে ১৪ শাক খেয়ে, ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ১৪ ফোঁটা দিয়ে এই তিথিকে উদযাপন করে থাকে বহুকাল থেকেই।

আপনারাও চাইলে ভূত চতুর্দশী পালন করতে পারে তার জন্য আমি একবার চৌদ্দ শাক এর মধ্যে কি কি পরছে পরছে তা একবার বলে দিই।
 (১) ওল (২) কেঁউ (৩) বেতো (৪) সরষে (৫) কালকাসুন্দে (৬) নিম (৭) জয়ন্তী (৮) শাঞ্চে (৯) হিলঞ্চ (১০) পলতা (১১) গুলঞ্চ (১২) ভাটপাতা (১৩) শুষণী (১৪) শৌলফ

তিথিটা চতুর্দশী তাই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে পরোলোকগত পিতৃপুরুষ, প্রেতাত্মা, ধর্ম, বিষ্ণু, কান্তারপতি বা অরণে অধিষ্ঠিত দেবতার উদ্দেশে।



Comments

Post a Comment